গাজীপুর সাফারি পার্ক ভ্রমণ একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হতে পারে, এবং এই যাত্রাকে উপভোগ্য করতে কিছু বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন।

যাত্রা শুরু: ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে গাজীপুর সাফারি পার্কে যেতে পারেন। ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, কিংবা সিএনজি/অটো-রিকশা ব্যবহার করতে পারেন। ব্যক্তিগত গাড়ি বা মাইক্রোবাস সবচেয়ে সুবিধাজনক। ঢাকার উত্তরা থেকে সাফারি পার্কের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার, যা আপনার গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

টিকিট ও প্রবেশ: পার্কের প্রধান ফটকে পৌঁছানোর পর আপনাকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য প্রবেশ ফি একটু কম, তবে বিদেশিদের জন্য ফি কিছুটা বেশি হতে পারে। পার্কের সময়সূচি অনুযায়ী, সাধারণত সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।


পথনির্দেশিকা: পার্কের ভিতরে প্রবেশ করলে আপনি একটি মানচিত্র ও নির্দেশিকা পাবেন, যা পার্কের বিভিন্ন জোন এবং আকর্ষণগুলোর সঠিক অবস্থান সম্পর্কে আপনাকে ধারণা দেবে। পার্কটি বিভিন্ন অংশে ভাগ করা হয়েছে—সাফারি জোন, ওয়াকিং জোন, ও জলজ প্রাণীর এলাকা ইত্যাদি।

বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ: সাফারি পার্কের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এখানে মুক্ত বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ। লায়ন, টাইগার, হাতি, গন্ডার, হরিণ, এবং আরও অনেক বন্যপ্রাণী এখানে মুক্ত পরিবেশে বিচরণ করে। পার্কের নির্দিষ্ট এলাকায় যানবাহন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন, যেখানে জানালার বাইরে থেকে বন্যপ্রাণী দেখার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। তবে, নিরাপত্তার জন্য গাড়ির দরজা ও জানালা সবসময় বন্ধ রাখতে হবে।



খাবার ও বিশ্রাম: পার্কের ভিতরে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকান রয়েছে, যেখানে স্থানীয় খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যায়। পার্কের ভিতরে পিকনিক স্পটও রয়েছে, যেখানে পরিবার বা বন্ধুদের সাথে বসে খাবার খেতে পারবেন।

পরামর্শ: ভ্রমণের সময় হালকা পোশাক পরা উচিত, যেন আরামে ভ্রমণ করতে পারেন। জুতা অবশ্যই আরামদায়ক হওয়া উচিত, কারণ অনেকটা হাঁটতে হতে পারে। ক্যামেরা নিয়ে যেতে ভুলবেন না, কারণ এখানে আপনি প্রচুর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে পাবেন, যা ক্যামেরাবন্দি করা যেতে পারে।

ফেরার সময়: বিকেলের দিকে ফিরে আসার পরিকল্পনা করা ভালো, কারণ সন্ধ্যার পর পার্ক বন্ধ হয়ে যায় এবং ফিরে আসার পথ কিছুটা অন্ধকার হতে পারে।